শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৪:৫৫
শিরোনাম :
দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর! বরিশালের এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস কে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ শোকাহত আব্দুস সালামের পরিবারের পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মুলাদীতে এনসিপির ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির দুই ডাবল ডেকার বাস উদ্বোধন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পারে,নলছিটি উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে ফাহমিদা সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে সিনিয়রের বিরুদ্ধে জুনিয়রকে স্টাম্প দিয়ে আঘাতের অভিযোগ শায়েস্তাবাদে জনগনের আস্থার প্রতীক বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হেমায়েত হোসেন মুরাদ!

সময়ের আগেই ধান কাটতে বাধ্য হওয়ায় হাওড়ের কৃষকদের চোখে হতাশার ছাপ

ডেস্ক রিপোর্ট ।। অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের চোখে এখন হতাশার ছাপ। পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধানের খেত। সময়ের আগেই ধান কাটতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদিত ধানেরও মিলছে না ন্যায্য দাম। এতে ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

নাসিরনগরের মেদীর হাওড়ের কৃষাণী বিলকিস খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ২২ হাজার টাকা মজুরি দিয়ে তিন কানি জমির ধান কাটছি। ধান পাইছি ২০ মণ কিন্তু অপরিপক্ব ধান হওয়ায় বেপারীরা দাম বলছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে ঋণের কিস্তি কেমনে দিমু? মরা ছাড়া আর উপায় নাই।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমি হাওড়াঞ্চলে। গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মেদীর হাওড়ের অন্তত ৩০৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বিলকিস খাতুন জানান, নিজের ও বর্গা নেওয়া জমি মিলিয়ে ২২ কানি জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। চাষাবাদের খরচ মেটাতে আত্মীয়স্বজন ও সমিতি থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। কিছু ধান আগেই কাটা গেলেও এখনও ১০ কানি জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে ১২০০ টাকা মজুরি দিয়েও ধান কাটানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জমিতে গলাপানি। ধান কাটারও সুযোগ নেই। অথচ ধান বিক্রি করে কতকিছু করব বলে ঠিক করে রাখছিলাম! সব শেষ হয়ে গেলো আমার।

একই দুর্ভোগের কথা জানান কৃষক আবুল কাশেম। তিনি বলেন, পাঁচ কানি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ধান কাটলেও ভালো দাম পাওয়া যাবে না।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।